হোমপেজ

আপডেট
১ম বর্ষ বার্ষিক পরীক্ষা শুরু ১৪/৭/২০২৬ইং তারিখ হতে।
প্রতিষ্ঠানের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

উত্তরের জনপদ দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে সেতাবগঞ্জ মহিলা কলেজ। এটি শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই নয়, বরং বৃহত্তর দিনাজপুর অঞ্চলের নারী শিক্ষা ও ক্ষমতায়নের এক মূর্ত প্রতীক। ১৯৯৮ সালে একঝাঁক স্বপ্নদ্রষ্টার হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজটি আজ ৫০০ জন ছাত্রীর কলকাকলিতে মুখর, তাদের স্বপ্ন আর সম্ভাবনার এক নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল। কলেজটির জন্মের গল্পটি যেমন অনুপ্রেরণার, তেমনি আবেগঘন। তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার, ড. মহিউদ্দীন আহম্মেদের দূরদর্শী উদ্যোগে এবং স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও সহযোগিতায় এর পথচলা শুরু হয়। সেই সময়ে, নারী শিক্ষার আলো যখন আজকের মতো এতটা প্রসারিত হয়নি, তখন এই উদ্যোগ ছিল এক বৈপ্লবিক পদক্ষেপ। উপজেলার ভেতরেই অস্থায়ী ঠিকানায় শুরু হয়েছিল কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম। সীমিত সম্পদ আর নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও অদম্য ছিল এর লক্ষ্য—অবহেলিত জনপদের মেয়েদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে দেওয়া। অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে কলেজটি আজ তার নিজস্ব ক্যাম্পাসে স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠিত। বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য শাখায় উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ছাত্রীরা এখানে জ্ঞানার্জনের সুযোগ পাচ্ছে। শুধু পুঁথিগত বিদ্যায় সীমাবদ্ধ না থেকে, কলেজটি ছাত্রীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্ব এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার মতো গুণাবলী বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। একটি শক্তিশালী সমর্থন ব্যবস্থা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের পরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে, সেতাবগঞ্জ মহিলা কলেজ এই অঞ্চলের নারীদের জন্য শিক্ষাগত ও কর্মজীবনের সুযোগকে প্রসারিত করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। বোচাগঞ্জ উপজেলার মতো একটি ঐতিহাসিক ও কৃষিনির্ভর এলাকায় নারী শিক্ষার প্রসার ঘটানো সহজ ছিল না। কিন্তু সেতাবগঞ্জ মহিলা কলেজ সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে আজ একটি বাতিঘর হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। এই প্রতিষ্ঠানের মধ্য দিয়ে অসংখ্য নারী উচ্চশিক্ষা লাভ করে নিজেদের জীবনে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন, পরিবার ও সমাজে রাখছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। এখানকার প্রতিটি ছাত্রী এক একটি সম্ভাবনার গল্প, যারা ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে আরও সমৃদ্ধ করার স্বপ্ন দেখে। এই কলেজের প্রতিটি ইট-পাথরের সাথে জড়িয়ে আছে এর প্রতিষ্ঠাতা এবং স্বপ্নদ্রষ্টাদের ত্যাগ ও ভালোবাসার কাহিনী। তাদের সেই নিঃস্বার্থ অবদানের ফলেই আজ সেতাবগঞ্জ মহিলা কলেজ শুধু বৃহত্তর দিনাজপুরের সর্ববৃহৎ নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই নয়, বরং হাজারো নারীর স্বপ্ন পূরণের এক বিশ্বস্ত তীর্থক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির এই অগ্রযাত্রা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে, এই প্রত্যাশা সকলের।

সভাপতি মহোদয়ের বাণী

গৌরব ও আনন্দের সাথে সেতাবগঞ্জ মহিলা কলেজের নতুন ওয়েবসাইট উদ্বোধনের এই মাহেন্দ্রক্ষণে আমি প্রতিষ্ঠানটির সাথে জড়িত সকলকে আমার আন্তরিক অভিবাদন জানাই। ১৯৯৮ সালে যে স্বপ্ন নিয়ে এই জ্ঞানতীর্থের যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা আজ শত শত ছাত্রীর কলকাকলিতে মুখর এক আলোকিত প্রাঙ্গণ।আমরা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি সেই সকল স্বপ্নদ্রষ্টাকে, যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এই প্রতিষ্ঠানটি নারী শিক্ষা ও ক্ষমতায়নের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। এই নতুন ওয়েবসাইটটি কেবল একটি ডিজিটাল পরিচয় নয়, বরং আমাদের সেইসব স্বপ্ন, সাফল্য আর সম্ভাবনার এক বিশ্বব্যাপী জানালা। এর মাধ্যমে আমাদের ছাত্রীরা আধুনিক বিশ্বের সাথে আরও সহজে নিজেদের সংযুক্ত করতে পারবে এবং তাদের সৃজনশীলতা প্রকাশের নতুন একটি মাধ্যম খুঁজে পাবে।আমার প্রিয় ছাত্রীদের প্রতি আহ্বান, তোমরা এই কলেজের ঐতিহ্যকে ধারণ করে জ্ঞান-বিজ্ঞানে সমৃদ্ধ হও এবং নিজেদেরকে আত্মবিশ্বাসী ও মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলো। তোমরাই গড়বে আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।

আমি এই প্রতিষ্ঠানের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি।

      ধন্যবাদান্তে,

মোঃ মারুফ হাসান

          সভাপতি
পরিচালনাপর্ষদ,
সেতাবগঞ্জ মহিলা কলেজ।

অধ্যক্ষ মহোদয়ের বাণী

সেতাবগঞ্জ মহিলা কলেজের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে, নতুন ওয়েবসাইটের শুভ সূচনায় আমি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং পরিচালনা পর্ষদের সকলকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আমাদের সভাপতির মতোই, আমিও সেই স্বপ্নদ্রষ্টাদের স্মরণ করি, যাদের দূরদর্শী চিন্তার ফসল আজকের এই প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক প্রধান হিসেবে আমি বলতে গর্ববোধ করি যে, সেতাবগঞ্জ মহিলা কলেজ শুধুমাত্র একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, এটি নারী মুক্তি ও আত্ম-প্রতিষ্ঠার একটি নির্ভরযোগ্য মঞ্চ। আমাদের শিক্ষকমণ্ডলী ছাত্রীদের মেধা ও মননের বিকাশে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এই ওয়েবসাইটটি আমাদের ছাত্রীদের জ্ঞানার্জনের পথকে আরও প্রশস্ত করবে এবং বিশ্ব নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার পথ তৈরি করে দেবে।আমার স্নেহের ছাত্রীদের প্রতি আমার বার্তা হলো— জ্ঞানই শক্তি। তোমরা প্রযুক্তির এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের দক্ষ ও যোগ্য করে তোলো। কলেজের নিয়ম-শৃঙ্খলা ও আদর্শ মেনে, তোমরা তোমাদের সাফল্যের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখবে, এই আমার বিশ্বাস। তোমাদের হাত ধরেই নির্মিত হবে এক নতুন, আলোকিত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।

সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সেতাবগঞ্জ মহিলা কলেজ তার সাফল্যের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখুক, এই কামনা করি।

ধন্যবাদান্তে,

আবু লোকমান মুহাম্মদ ইকবাল হোসাইন

অধ্যক্ষ(ভারপ্রাপ্ত)
সেতাবগঞ্জ মহিলা কলেজ

News and Events

Scroll to Top